রকস্টারের সাথে তারিক জামিল সাহেব কেন দেখা করেছিলেন? - মাওলানা তারেক জামিল (বাংলা সাবটাইটেল সহ)
জুনায়েদ জামশেদকে (রহ.) আল্লাহ উচ্চ মর্তবা দান করুন।আমি এক জায়গায় বসে ছিলাম, সেখানে টিভি চলছিল।আমি স্ক্রিনের মধ্যে দেখলাম একজন সুদর্শন যুবক ডান্স করছিল।তার সাথে ১০-১২ জন মেয়ে ডান্স করছিল।আমার খেয়াল আসলো তাকে কে হেদায়েত দান করবে?
এত সুদর্শন যুবক যদি, এভাবে মারা যায় তাহলে তার পরিণাম কি হবে?
তার জন্য সহানুভূতি অনুভব করছিলাম।আর মনের মধ্যে এই খেয়াল আসছিল যে, সে তো হেদায়েত পাবেনা।দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে যাবে কে তার কাছে?
চার মাস পর আমি করাচিতে ছিলাম এক যুবক আমার কাছে এসে বললো, "একজন পাকিস্তানি গীতিকারের সাথে আপনাকে দেখা করাতে চাই।"
আমি বললাম, "দেখা করাও।"
সেই যুবকটি যখন গীতিকারকে ভিতরে নিয়ে আসলো আমি দেখলাম সেই গীতিকার অন্য কেউ নয়, যাকে আমি স্ক্রিনে দেখেছিলাম সেই জুনায়েদ জামশেদ।নব্বইয়ের দশকে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি থেকে জুনায়েদ জামশেদ যে, পরিমাণ খ্যাতি অর্জন করেছিল সেই পরিমাণ খ্যাতি অন্য কেউ অর্জন করতে পারে নাই।যত পরিমাণ অর্থ, যত পরিমাণ খ্যাতি, যত পরিমাণ নাম, যত পরিমাণ ভালোবাসা অর্জন করেছিল, সেই সময়ের জুনায়েদ জামশেদ এর মত কেউ অর্জন করতে পারে নাই। আমি জিজ্ঞাসা করলাম তাকে, "আপনার নাম কি?"
সে বলল, "আমার নাম জুনায়েদ।"
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, "কি করেন?"
সে বলল, "আমার মিউজিকের সাথে সম্পর্ক আছে।"
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, "আপনি গান করেন নাকি বাদ্যযন্ত্র বাজান?"
সে বলল, "আমি গান গাই।দিল দিল পাকিস্তান আমি গেয়েছি।"
এরপর কি বলেছি আমার মনে নেই। সে প্রথমে কাপড় দিয়ে মুখ লুকিয়ে রেখেছিল।অতঃপর সে কাপড় সরিয়ে গালের মধ্যে হাত দিয়ে আমার কথা শোনা আরম্ভ করলো। সে আমাকে জিজ্ঞাসা করল, "একটি প্রশ্ন করব?"
আমি বললাম, "করো।"
একজন পাকিস্তানি যুবক যেই সকল স্বপ্ন দেখে কখনো এই রকম হবে, কখনো সেই রকম হবে, যেই রকম জাঁকজমকপূর্ণ জীবনের কল্পনা করে তা আমার ফিজিক্যালি আছে। কিন্তু মনের মধ্যে শান্তি নেই। এইকম কেন হচ্ছে?
আমার তো সকল ইচ্ছে পূরণ হয়ে গিয়েছে?
আমার কাছে মনে হয়, আমি সেই নৌকা যার কোন উদ্দেশ্য নেই।”
কি সুন্দর কথা সে বলেছে!
আমি বললাম, "খুব সহজ কথা।"
সে জিজ্ঞাসা করলো, "কি?"
আমি উত্তর দিলাম, "তোমার ব্যথা হচ্ছে ডান পায়ে, আর তুমি ওষুধ দিচ্ছ বাম পায়ে।বাম পায়ে ব্যথা নেই তাই বাম পায়ে ঔষধ লাগানো দ্বারা কোন লাভ হবেনা, ডান পায়ে ব্যথা আছে তুমি ডান পায়ে ওষুধ দিচ্ছনা সহজ বিষয়।"
সে বলল, "আমি বুঝতে পারি নাই।"
আমি বললাম, "এই যে রোগ সেটি শারীরিক রোগ নয়, এটি আত্মিক রোগ।রুহ মেয়ে সম্পর্কে জানেনা, মিউজিক সম্পর্কে জানেনা, নেশা সম্পর্কে জানেনা, মদ্যপান সম্পর্কে জানেনা।সে শুধু দুইটি জিনিস জানে, এক যে আল্লাহ তাকে বানিয়েছে, দুই যে রসূলের (স.) তরিকায় জীবন যাপন করতে বলা হয়েছে।এই দুই জিনিস ছাড়া রুহের অন্য কোন খোরাক নেই।"
আমি জিজ্ঞাসা করলাম তাকে, "তোমার ক্ষুধা লেগেছে তুমি গান গেতে পারবে?"
সে বলল, "না।"
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, "তোমার পিপাসা লেগেছে তুমি গান গাইতে পারবে?"
সে বলল, "না।"
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, "তোমার ঘুম ধরেছে, তুমি গান গেতে পারবে?"
সে বলল, "না।"
আমি বললাম, "যেমন তুমি শারীরিক চাহিদা পূরণ না করার কারণে, গান গেতে পারছো না, ঠিক তেমনি রুহেরও খোরাক রয়েছে। যখন আপনি আল্লাহর সাথে সম্পর্ক সৃষ্টি না করেন, নামাজ পড়েন না, যখন আপনি সত্য কথা বলেন না, হারাম পরিহার করেন না, যখন আপনি মিথ্যা পরিহার করেন না, যখন আপনি নাফরমানী পরিহার করেন না, নেশা পরিহার করেন না, তখন রূহ খোরাক পায় না।
No comments